Monday, November 9

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে ছয় থেকে সাতজন জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। তারা সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন এবং এক পর্যায়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। তবে সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে তারা ব্যর্থ হন।

গ্রেপ্তার হওয়া লোপনের বাসা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানায়, রিভলভারের চেম্বারে ছয়টি গুলি থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে তিনটি। জিজ্ঞাসাবাদে লোপন জানান, ঘটনার সময় তিনি দুই রাউন্ড গুলি করেন এবং আশপাশের লোকজন সরাতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিলিং মিশনে জড়িতদের সঙ্গে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশি-র যোগাযোগ ছিল। কিবরিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর-১২ বি-ব্লকের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানের সামনে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হামলাকারীরা পালানোর সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালককেও গুলি করে আহত করে।

হত্যার পর কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
3 + 3 =