পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাত ছিল ১৯৯তম আয়োজন, যেখানে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।
জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে বিশ্বজুড়ে শান্তি, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকা মুসল্লিদের ঢলে মুখর হয়ে ওঠে। নরসুন্দা নদী তীরবর্তী ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের সড়ক, বাড়ির ছাদ—সব জায়গা মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠ জামাত শুরুর আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে।
রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়—১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং পাঁচ মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়।
নিরাপত্তার দিক থেকে ছিল নজিরবিহীন ব্যবস্থা। ২০১৬ সালের হামলার অভিজ্ঞতার পর চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে প্রবেশের আগে প্রত্যেক মুসল্লিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হয় এবং ছাতা, লাঠি বা আগুন জ্বালানোর সামগ্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চার প্লাটুন সেনাবাহিনী, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় ১১০০ পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, মেডিক্যাল টিম ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়।
জামাত শুরুর আগে বক্তব্য দেন শরীফুল আলম, মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয় ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা ঈদের আগেই কিশোরগঞ্জে এসে অবস্থান নেন।
ঐতিহাসিক এই ঈদগাহের উৎপত্তি নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে—মোগল আমলে এখানে ‘শ লাখ’ রাজস্ব আদায়ের সূত্র ধরে নাম হয় ‘শোলাকিয়া’। আরেক মতে, ১৮২৮ সালে সোয়া লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণের পর থেকেই এর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শোলাকিয়ার ঈদ জামাত এবারও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

