প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
২০০৮ সালের একটি প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন বিদিশা। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলাটি করেন মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ হোসেন। ওই সময় বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটির মূল্য ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে চুক্তি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন মোশাররফ।
এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পর দীর্ঘদিনেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।
মামলার বিবরণে আরও অভিযোগ করা হয়, টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে মোশাররফকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
কবি ও অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে বিদিশা সিদ্দিক ২০০০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে বিয়ে করেন। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এর আগে বিদিশা জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

