Thursday, November 5

সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী ছাত্রকে পর্যায়ক্রমে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা (নং-১১০) দায়েরের পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সাভার ও আশুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বড়াইবাড়ি এলাকার তাহমিদ হাসান রাফি (১৫), বরগুনার বেতাগী থানার সুবিদখালি এলাকার মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম (১৩), জামালপুর সদর থানার মাটিখোলা মৈমুনা এলাকার মোহাম্মদ বিন মুক্তার (১২), ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার নয়আনী এলাকার হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২১) এবং সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার কালিকাপুর এলাকার মো. কামরুল ইসলাম (২৬)।

পুলিশের তথ্যমতে, মামলার প্রধান আসামি তাহমিদ হাসান রাফিকে কালিয়াকৈরের বড়াইবাড়ি এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে, সাজেদুল ইসলাম সায়েমকে বরগুনার বেতাগীতে তার নানার বাড়ি থেকে এবং মোহাম্মদ বিন মুক্তারকে সাভারের চাপাইন তালতলা এলাকায় তার বাবার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেনকে ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে এবং মো. কামরুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার দুই শিক্ষককে শনিবার দুপুরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেপ্তার তিন শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
94 − = 87