Friday, November 6

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন-সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ (ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স—এনসিসিএফ) গঠন করেছে সরকার। জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু থাকবেন সহসভাপতি হিসেবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজকে কমিটির সমন্বয়ক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প, বাণিজ্য, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, নৌপরিবহন, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

নতুন এই কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে কমিটির।

প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে কমিটি। পাশাপাশি কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তদারক করবে।

এ ছাড়া জলবায়ু অর্থায়ন-সংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা, বিদ্যমান নীতিকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ করবে এই কমিটি।

জলবায়ু অর্থায়ন-সংক্রান্ত কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন ও কারিগরি কমিটির কার্যক্রম তদারক, তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও জাতীয় কমিটির ওপর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিগত বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনেও কমিটি সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বছরে অন্তত দুবার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1