Friday, November 6

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতন ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এর মধ্যে ৩৪ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে পাঁচবার কারাবরণ করার পাশাপাশি ঢাকার একটি বাসায় আড়াই মাস আত্মগোপনেও ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করলেও রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ ছিল না। এর মধ্যে ৩৪ বছর বিএনপির সঙ্গে ছিলেন। এই সময়ে দলটির অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন এবং কঠিন সময় পার করেছেন। রাজনৈতিক কারণে পাঁচবার কারাগারে যেতে হয়েছে। একবার ঢাকার একটি বাসায় আড়াই মাস আত্মগোপনে থেকে গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। এ সময় বাসা থেকে বের হননি। পুলিশের নানা ধরনের হয়রানি, গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলা এবং একের পর এক মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে বলেও স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, বেগম জিয়ার কাছ থেকে তিনি সবসময় স্নেহ ও সহচর্য পেয়েছেন। দুঃসময়ে খালেদা জিয়া তাঁদের সাহস দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি সবসময় সদয় ছিলেন।

ঈদের দিনের একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের দিন সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়া মাত্র দুজন অতিথিকে নিয়ে ডিনার করতেন। তাঁদের সঙ্গে খাবার পরিবেশন করতেন এবং টুকটাক গল্প করতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানি বাহিনীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনী অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঢাকায় আত্মীয়ের বাসা থেকে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল। অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিকে এভাবে খুঁজে গ্রেপ্তার করার ঘটনা তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন।

খালেদা জিয়াকে কেন পাকিস্তানি বাহিনী এত গুরুত্ব দিয়ে খুঁজেছিল—এমন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তারা হয়তো বুঝতে পেরেছিল, তিনি ভবিষ্যতে একজন জননেত্রী হতে পারেন। এ কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সেটিও গ্রেপ্তারের একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স গঠনের স্মৃতিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের দিকে তেলঢালায় ছাত্রদের প্রশিক্ষণ চলছিল এবং জেড ফোর্স সংগঠিত হচ্ছিল। একদিন তিনি কমান্ডার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁকে একটি চিঠি লিখতে দেখেন।

চিঠিটি কাকে লেখা হচ্ছে জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান জানান, পাকিস্তানের জেনারেল জামশেদকে চিঠি লিখছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁকে চিঠিটি পড়তে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে খালেদা জিয়া পাকিস্তানি বাহিনীর হেফাজতে থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ না করা হলে একদিন জেনারেল জামশেদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পরে চিঠিটি ডাকযোগে পাঠানোর কথা জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান সেটি একজন মেজরের হাতে দেন। পরদিন দেওয়ানগঞ্জে অপারেশনে যাওয়ার সময় একটি ডাকবাক্সে চিঠিটি ফেলে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, চিঠিটি জেনারেল জামশেদের কাছে পৌঁছেছিল এবং তিনি এর জবাবও দিয়েছিলেন।

জেনারেল জামশেদের উত্তরের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি জানিয়েছিলেন, ওই চিঠির প্রয়োজন নেই। একজন কর্মকর্তার স্ত্রীকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, সে বিষয়ে তারা জানেন।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1