নড়াইলের একটি মাদরাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে শিক্ষকের মারধরের পর অসুস্থ হয়ে সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসাটির তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
মৃত সুলায়মান নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কুরআন নড়াইলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। সে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে।
আটক তিন শিক্ষক হলেন—মারকাযুল কুরআন নড়াইলের শিক্ষক ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে মাদরাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে থাকা অবস্থায় সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদরাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সকালে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে অসুস্থতার খবর দেন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে সুলায়মানের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখতে পান।
পরে তাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুলায়মানের মৃত্যু হয়।
সুলায়মানের বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী অভিযোগ করেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তার ছেলেকে মারধর করেছেন এবং সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
ইকরাম আলী বলেন, আগের দিন বিকেলে তিনি ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় দেখে গিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে নামাজও পড়েছিলেন। তার ভাষ্য, রাতে ছেলেকে মারধর করা হলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সময়মতো পরিবারকে জানায়নি এবং চিকিৎসকের কাছেও নেয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর ছেলে ঘাড়ে ব্যথার ইঙ্গিত দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াৎ আল মামুন। তিনি বলেন, বুধবার রাত ৩টার দিকে সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মাদরাসার কেউ জড়িত নয়। তবে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুলায়মানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

