Friday, November 6

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং এলএনজি আমদানি বৃদ্ধিসহ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বর্তমান জ্বালানি সংকট ও এর প্রভাবে সৃষ্ট বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নারী সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বাসস।

জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি-নির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

সংকট উত্তরণে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি কূপ খনন করা হয়েছে এবং এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

গ্যাস অনুসন্ধানের পরিধি বাড়াতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টু-ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আর স্থলভাগের জন্য ‘অনশোর মডেল পিএসসি’ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

নতুন করে অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

গ্যাস আমদানির বিষয়ে তারেক রহমান জানান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সাল নাগাদ ওই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি দৈনিক ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন অনুসন্ধান এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বর্তমান সংকট কাটিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

Leave A Reply


Math Captcha
81 − 73 =