বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে দিবাগত রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে ছয়জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের মধ্যে চারজন ছাত্রদলের নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম (২৬), যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত (২২), সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব (১৮), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না শেখ ওরফে এসএম সিহাব (১৮), নামাজগড়ের বিপ্লব সরদার (২৬) এবং নিশিন্দারা এলাকার তানভীর শেখ (২৬)।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৫) শ্বাসকষ্ট নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাঁকে একটি ইনজেকশন দেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, অন্য এক রোগীর জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন ভুল করে মালেককে দেওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন। এ সময় আজরাফ ইসলাম অর্ক নামে আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। পরে মেডিকেলের অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তাঁদের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগতও চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। এতে আজরাফসহ ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন।
অন্যদিকে, রোগীর স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাঁদের ছয়জন স্বজনকে হাসপাতালে আটকে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরে ওই ছয়জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক ঋতু মণ্ডল স্নিগ্ধ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাঁদের হাড় ভেঙে গেছে। এখনও নিশ্চিত না কার অবস্থা কতটা গুরুতর। পরে বিস্তারিত জানাব। তবে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। আমাদের কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বুধবার জানাব।’
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর এ মুর্শেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা খুবই ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের কিছু দাবি আছে। আমরা সেগুলো সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি।’
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, মালেক নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ হাসপাতালে যায়। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে এবং তাঁরা ছয়জনকে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রেখেছেন।
ওসি বলেন, ওই ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকায় তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

