রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে ডিবির তিন সদস্যের একটি দল। দলে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং আবু সাঈদ বাবলা। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দুই আসামিকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে আসামিদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং আসামিদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়। তবে আসামিরা ইতোমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ বলেন, আলোচিত চার খুনের রহস্য উদঘাটনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে এবং পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি জানান, আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ১০ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টায় মোবাইল ফোনে ৮০ বার কথা হয়েছে। পুলিশের কাছে এই যোগাযোগ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার দুই আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

