Thursday, November 5

তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত দুটি সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে এই দুই পার্শ্ব সেতু।

বুধবার থেকে ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর দুই প্রান্ত দিয়েই যান চলাচল করতে পারবে। তবে সেতু দুটি মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অংশ নয়; নিচের সড়কের বিকল্প হিসেবে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বর্তমানে যে অ্যাটগ্রেড বা সমান্তরাল সড়ক দিয়ে যান চলাচল করছে, সেটির পরিবর্তে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। নিচের সড়কের বিকল্প হিসেবে দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর একটি ধউর থেকে আশুলিয়ার দিকে এবং অন্যটি আশুলিয়া থেকে ধউরের দিকে যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে।

পার্শ্ব সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতেও এসব সড়কে কোনো টোল নেওয়া হবে না। সার্ভিস সেতু দিয়ে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারী, সাইকেল ও অটোরিকশাও চলাচল করতে পারবে।

সেতু দুটির মাধ্যমে যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিদেশি ঋণে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক নির্মাণে বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার উড়ালপথের পাশাপাশি প্রায় ১১ কিলোমিটার র‍্যাম্প, দুই লেনের নবীনগর ফ্লাইওভার, বাইপাইলে ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ, ১৪ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক পুনর্নির্মাণ, দুই লেনের সেতু, ওভারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ইউটিলিটি ডাক্ট ও টোল প্লাজাও থাকবে।

২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সে সময় ২০২২ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এখন নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 2