Thursday, November 5

রংপুরের আলোচিত চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যদিও হত্যাকাণ্ডের আগে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন এবং গ্রেপ্তারের আট দিন পর রোববার ডোপ টেস্টের জন্য মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সোমবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল জেলগেট থেকে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’

ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে আদালতের অনুমতি নেওয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার কথা জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

চার খুনের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে আসামিদের ইয়াবা সেবনের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। ইয়াবায় অ্যামফিটামিনজাতীয় মাদক থাকে।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারাই একে একে ওই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেছেন।

২৩ আগস্ট প্রথম দফায় এবং ২৭ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাতে হত্যাকাণ্ডের আগে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত ১২টার পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা কিনে সেবনের জন্য প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীর পাশের বাড়ির ছাদে ওঠেন। পরে সেখান থেকে গণপতির বাড়ির ছাদে গিয়ে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন শুরু করেন। এ সময় গণপতি তাদের দেখে ফেললে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এরপর একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানানো হয়।

তবে দুই আসামি মিলে চারজনকে হত্যার পুলিশের দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখছে নিহত গণপতির পরিবার।

এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আলোচিত মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 51 = 60