আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘জ্বালানি নিয়ে আর কী বলব। গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে—টুকু আসে টুকু যায়। বিদ্যুৎ কখন আসে, কখন যায় এবং কতক্ষণ থাকে, তা দেশের সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারেন না।’
তিনি বলেন, একদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চলছে। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রাথমিক অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতে নিশ্চয়তা বিধানের কথা ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ কিংবা বাকচাতুরতার মাধ্যমে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন একাধিক রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না।’ ব্যঙ্গাত্মকভাবে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে এতটাই ‘ভালো’ অবস্থায় পৌঁছেছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ বাস্তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬২ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টিরও বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যাদের বর্তমানে চাকরি আছে, তাদের চাকরি আর কতদিন টিকে থাকে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।’
বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে মানুষ পণ্য কিনতে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি খুঁজে পাওয়া যায় না। ডিম ও মিনিকেট চালের দামও আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কতটা বেড়েছে, তা টিসিবির পণ্য কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মানুষের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়।

