Friday, November 6

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়াল, নিখোঁজ দেড় হাজার

হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বরফধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও পলিমাটির নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে রাসুয়া এলাকার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ঢুঙ্গানা জানান, হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠার পর তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউ ও ধোঁয়ার মতো একটি মেঘ ওপর থেকে নেমে আসতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। কাস্টমস পয়েন্টে থাকা ৩০০টির বেশি যানবাহনও স্রোতে ভেসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে জঙ্গল ও উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন।

ত্রিশূলি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তিব্বত অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই চোখের সামনে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায় তাঁর স্ত্রী ও ১৮ বছর বয়সী সন্তান। স্থানীয় এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত না থাকলেও লেন্দে নদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ এই বিপর্যয় ঘটে। পরে পুরো এলাকা কয়েক মিটার পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩০০ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই মানসরোবরগামী তীর্থযাত্রী। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও শুরু হয়েছে। ভারত ইতোমধ্যে ১০ টন জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার সহায়তার পাশাপাশি পরামর্শক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। রেড ক্রসও ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও পলিমাটির নিচে আটকে থাকা নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

Leave A Reply


Math Captcha
16 − = 13