Friday, November 6

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তিনি।

দীর্ঘ সময় পর বিএনপির চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। সফরকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সেক্রেটারি সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দলীয় নেতারা জানান, শুধু সংবর্ধনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যাশার বিষয়ও সফরকালে তুলে ধরা হবে। প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স এবং দেশের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কার্যকর যোগাযোগের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনের সামনে বড় শান্তি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সফরকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকার বিএনপি নেতাদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। ২৩ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১টি সভায় সফরকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর।

এই সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও প্রবাসী মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম বক্তব্য এবং এরপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে।

রাষ্ট্রীয় দিক থেকেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্যও এ সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে সামনে পাওয়ার সুযোগকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস সাংগঠনিক তৎপরতায়ও প্রতিফলিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
36 − 27 =