Friday, November 6

পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালপত্র পরিবহনের জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। উদ্বোধনের পর প্রায় সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলেনি। দু-একটি শান্টিং মালবাহী খালি বগি ও রেল কর্মকর্তাদের মোটরট্রলি চলাচল ছাড়া কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি।

ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা ‘রূপপুর স্টেশন’ এখন কার্যত ওয়াগন ইয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রেলপথের বিভিন্ন অংশ কাশবন, ঘাস, লতাপাতা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে।

২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়ালি ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ ও রূপপুর রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো এবং লোড-আনলোডের সুবিধার জন্য এই রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালপত্র পরিবহনের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর সাড়ে তিন বছরেও এই রেলপথ দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের এক ছটাক পণ্যও পরিবহন হয়নি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেলপথ ও স্টেশন নির্মিত হলেও রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন মালপত্র ও ভারী যন্ত্রাংশ এখনও নদী ও সড়কপথে পরিবহন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রেলওয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ এবং ‘রূপপুর’ নামে একটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক কালার লাইট সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

সম্প্রতি রূপপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাকশীর পদ্মা নদীর কোলঘেঁষা আধুনিক স্টেশনটি প্রায় জনশূন্য। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে। টিকিট কাউন্টার, মালপত্র বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার, স্টেশন মাস্টার ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সদস্য জানান, স্টেশন থেকে বের হওয়ার রাস্তা হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে গেছে। ওই পথ দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় লোড-আনলোডের কার্যক্রম হচ্ছে না বলে তিনি শুনেছেন।

পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, নতুন রেলপথে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের মোটরট্রলি চলাচল করে। স্টেশন ইয়ার্ডে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নতুন কিছু ওয়াগন ও কোচ রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব কোচ সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে রূপপুর প্রকল্পের জন্য এখনো এই রেলপথ দিয়ে কোনো মালপত্র আনা-নেওয়া হয়নি।

পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখনও এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্যই রেলপথ ও স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষই এটি ব্যবহার করবে। বর্তমানে ব্যবহার না হলেও ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে এই রেলপথের ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave A Reply


Math Captcha
66 − = 58