দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ। গাড়ি ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি শিল্পকারখানায় কমে গেছে উৎপাদন। এতে রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যাস সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন, এলএনজি কার্গো ক্রয় এবং সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়গুলোতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে এলএনজি ক্রয়সহ জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিত অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই গ্যাস সংকট তীব্র হয়। ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক সচল হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না থাকায় বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬-৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তে এক্সিলারেট এনার্জির অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সদস্যদের টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একজন প্রতিমন্ত্রীও টার্মিনাল পরিদর্শনের অনুমতি পাননি।
এদিকে সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট আরও বেড়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট বিপি সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি এলে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যে শত শত শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দেশে গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যায়। একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।

