রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ‘বাকশাল’ নামের একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে প্রায় সাড়ে সাত শ শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ‘বাকশাল’ নামের একটি গরু কোরবানি ও ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনের ঘোষণা দেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
একই সময়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে গরুর ছবি পোস্ট করে রাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ইমজিয়াউল কামালি লেখেন, ‘আগামীকাল রাকসুর পক্ষ থেকে কোরবানি হবে বাকশাল। রাবিয়ানরা প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন।’
তবে পরে রাকসুর একাধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি এ আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘এটা রাকসুর কোনো আয়োজন নয়। সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী অর্থ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ দায়িত্বে এই আয়োজন করছেন। এর সঙ্গে রাকসু বা শিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই।’
রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্করও আয়োজনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আয়োজনটি কীভাবে হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং গরুভোজের আয়োজন বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার নিয়েই তিনি রাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া তার বিভাগ থেকে কোনো কার্যক্রম করা হয়নি। আয়োজনটি স্পন্সরের অর্থে হয়ে থাকলে বিষয়টি রাকসুর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে আয়োজনটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল। তার অভিযোগ, আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন ‘সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ’। শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানার ব্যবহার করে এমন আয়োজন করা হচ্ছে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তবে এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’
ফলে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নাকি রাকসুর উদ্যোগ—এ নিয়ে রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা দিয়েছে।

