দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ করা হবে। ভোটগ্রহণ শেষে অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা শুরু হবে এবং প্রাথমিক ফলাফল সরাসরি ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের শুরুতে এবং ভোট গণনার সময় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদের জন্যও নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনায় ইসির ২০ সদস্যের একটি দল কাজ করবে। বাকি বিষয়গুলো সংসদ সচিবালয় সমন্বয় করবে।
ভোটের পদ্ধতি সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট। মুড়ি অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘর থাকবে। মূল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। নির্ধারিত স্থানে ভোটার সংসদ সদস্য পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
ভোটারদের সুবিধার জন্য অধিবেশন কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা যেকোনো একটি বাক্সে তাঁদের ব্যালট দিতে পারবেন।
ইসি সচিব জানান, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই অধিবেশন কক্ষের ভেতরে ব্যালট বাক্সগুলোর সামনে ভোট গণনা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে চার বা পাঁচ সদস্যের একটি ব্যালট গণনা দল ব্যালটগুলো বাছাই ও গণনার কাজ করবে।
মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ ও কতটি বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন—এসব তথ্য নির্বাচনকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরাসরি অধিবেশন কক্ষে ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন ইসি সচিব।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের প্রয়োজন হতে পারে।

