Friday, November 6

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থে পরিচালিত করা হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থা সংস্কার করে নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে সময় লাগছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা, যা অপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল, সেটিকে যদি জনগণের স্বার্থে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে এই কাজে হাত দিয়েছি।’

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহন ও অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসনের জন্য গৃহ, আর্থিক অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারে করে তিনি বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে কক্সবাজারে পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হলে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হবে। বিনিয়োগকারীরা এমন পরিবেশ চান, যেখানে তাঁদের পণ্য সহজে বন্দরে পৌঁছাবে, কাঁচামাল নির্বিঘ্নে দেশে আসবে এবং রাস্তাঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। তাই যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পকারখানায় চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে এসব শিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তা ব্যয় করার কথা জানান।

উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।

কৃষক কার্ডের আওতায় লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ সুরক্ষা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

সবশেষে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বিভ্রান্তকারীদের প্ররোচনায় পা না দিয়ে সবাইকে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 14 = 16