Friday, November 6

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না। তারা হাতে-কলমে কাজ করে এবং খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের মধ্যে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব ল্যাবে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে।

ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজন শিক্ষার্থীর কাছে সুবিধা পৌঁছেছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর না করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিটি প্রকল্পে সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি ঘরে এবং প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। তবে প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কাজের অগ্রগতি, মনিটরিং ও মূল্যায়নের জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
9 + 1 =