Friday, November 6

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে লাথি মারার ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযানে নামে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত কিশোরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল রংপুর থেকে তাকে আটক করে। কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে পেছন থেকে পরপর দুইবার লাথি মারার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে স্থানীয়ভাবে অভিযুক্ত কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয়।

এদিকে ঘটনার শিকার দুই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র বা টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর পরিবারের দাবি, স্কুল চলাকালে অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। এতে মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে পরিবারগুলো নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়ের কোনো অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

তবে টিসি দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি দাবি করেন, দুই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার বা টিসি দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে স্কুল চলাকালে অনুমতি ছাড়া বাইরে গেলে টিসি দেওয়া হবে, এমন সতর্ক করে তাদের অভিভাবকদের একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী ছাত্রীদের টিসি দেওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় টিসি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ঘটনার মূল অভিযুক্তকে আটক করা হলেও ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অপরাধের শিকার শিশুদের শাস্তি না দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়া উচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে কিশোর অপরাধ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 24 = 29