Friday, November 6

চট্টগ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে এখনও ভয় পাচ্ছেন অনেক ভুক্তভোগী। এরই মধ্যে এক ব্যবসায়ীকে চাঁদা দাবির হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফাঁস হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে ইমনকে বলতে শোনা যায়, “এক কোটি বলতেছি এক কোটি নিব, চার আনাও কম হবে না।” তিনি আরও হুমকি দেন, টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে লোক পাঠানো হবে এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগী ওই ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রায় দুই মাস আগে হুমকির মুখে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ভয়ের কারণে তিনি থানায় মামলা করেননি বা পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও রাজি হননি তিনি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজীব শাহরিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের ভয়ে চাঁদা দিয়ে আসছেন। নিরাপত্তার অভাবে তারা বিষয়টি পুলিশ বা সংগঠনকে জানাতেন না।

তিনি জানান, এখন পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, চাঁদাবাজির শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি ঠেকানো এবং কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। ইতোমধ্যে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পরে আদালত ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানান, তিনি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। এর অর্ধেক বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো এবং বাকি অর্থ তিনি নিজের কাছে রাখতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদা আদায়ের আগে ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। পরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে প্রাণনাশ ও হামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটানো হতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইমন।

Leave A Reply


Math Captcha
38 − = 36