Friday, November 6

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রথম দিনেই রাজধানীর ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ জাদুঘরটি পরিদর্শনে আসেন।

গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য ১২ বছরের বেশি বয়সীদের টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি এবং বীর শহীদদের নামসংবলিত দেয়াল দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রদর্শনী কক্ষে আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, নির্যাতনের নানা নিদর্শন এবং তৎকালীন সরকারের কথিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে নির্মিত একটি প্রতীকী অংশ প্রদর্শন করা হয়েছে।

জাদুঘরের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী জানান, বৃষ্টি সত্ত্বেও প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে প্রদর্শনী সামগ্রী স্পর্শ না করার অনুরোধ জানান।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রবিন মিয়া বলেন, আন্দোলনের স্মৃতি আজও তার শরীরে বহন করছেন। তিনি জানান, কোনো বিশেষ স্বীকৃতি নয়, বরং একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশই তাদের প্রত্যাশা।

ঢাকা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এস এম সামিউল ইসলাম বলেন, জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় নতুন প্রজন্ম আন্দোলনের ইতিহাস, মানুষের ত্যাগ এবং সেই সময়ের বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

দর্শনার্থী সাদ বিন হারুন বলেন, জাদুঘরে এসে তিনি জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পেয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘটনাগুলোও এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আন্দোলনের সামগ্রিক চিত্র বুঝতে সহায়ক।

Leave A Reply


Math Captcha
45 − = 38