নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল রুটের জনপ্রিয় জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনে গার্ড রুমে অবৈধভাবে যাত্রী বহন করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গার্ডের অফিস কক্ষ ব্যবহার করে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এসব যাত্রীর কাছ থেকে টিকিটবিহীনভাবে অর্থ আদায় করা হয়, যার পরিমাণ প্রতিদিন চারটি আপ-ডাউন ট্রিপ মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এবং বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যাত্রাসময় ও খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় দুই দিন আগেই ট্রেন দুটির টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এই সুযোগেই গার্ড রুমে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গার্ডের সহকারী পপিদুল ইসলাম পনি অবৈধভাবে ওঠা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে আদায় করছেন। গার্ড রুমে যাত্রী বসানোর জন্য সেখানে ২৫ থেকে ৩০টি প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা হয়েছে। এমনকি গার্ডের টেবিলের ওপরও যাত্রী বসানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই তার নিজস্ব এজেন্ট রয়েছে, যারা এসব যাত্রী সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে ট্রেনের পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম আতিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও দায় চাপান তার সহকারী পপিদুল ইসলাম পনির ওপর।
অন্যদিকে পপিদুল ইসলাম পনি দাবি করেন, “এই টাকার ভাগ ওপর মহলেও দিতে হয়।”
এ বিষয়ে পাকশি বিভাগের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. লিয়াকত শরীয় খান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে পপিদুল ইসলাম পনিসহ সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

