Friday, November 6

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সোমবার (৩ আগস্ট) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জোট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে, ২৯ বা ৩০ আগস্ট থেকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শুরু করার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচির রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চ ছাড়াও পথসভা, জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, জাতীয় সেমিনার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

জোটের নেতাদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো।

জানা গেছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিটি রুটে একাধিক পথসভা ও জনসভা আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি পালনের চিন্তা করছে জোট।

এদিকে, আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে পূর্বঘোষিত সমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের প্রস্তাব এসেছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কর্মসূচির সময়সূচি ও রুট চূড়ান্ত করা হবে।

জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলনের মূল দাবি হলেও কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং জনভোগান্তির মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

তাদের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার আরও বড় পরিসরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন হলেও হরতাল বা সহিংস কর্মসূচির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে জনগণের সাড়া মিললেও সরকার এখনো দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আন্দোলনকে নতুন ধাপে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 2 = 11