রাজশাহী প্রতিনিধি: সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বেনজীরের জামিন বাতিল করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) নিয়োগ করেছে।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রাজশাহী রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা এবং সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্টেজে বসেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রসচিব সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “কয়েক দিন আগেই আমরা এই বিষয়টি নিয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। তাদেরকে বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি খবর পেয়েছি, তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার আইনগত সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং জামিন বাতিলের মাধ্যমে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে।
এর আগে গত ১৪ জুন পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত করে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একাধিক মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এসব মামলার ধারাবাহিকতায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। তিনি দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে পরিচালিত একটি মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

