Sunday, November 8

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা, বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ক্রীড়াকে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজনের প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের জন্য একটি টেকসই জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলছে। এটি ভবিষ্যতের জাতীয় দল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং ইতিবাচক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, অধ্যবসায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এ ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।

আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে প্রতিযোগিতার ইভেন্ট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০-এ। পাশাপাশি অধিকসংখ্যক শিশু-কিশোরকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশগ্রহণকারী এই খুদে ক্রীড়াবিদরাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দেশের মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

পোস্টের শেষাংশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সব ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানিয়ে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave A Reply


Math Captcha
5 + 5 =