Saturday, November 7

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) এবং রাকিবুল হাসান (৩০)।

বুধবার (২২ জুলাই) মামলার এক আসামি আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।

আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর রহমান তার পরিবারকে অবহিত করেন এবং গাজী নজরুল ইসলামকে ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। গাজী নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এ সন্দেহের জের ধরেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে একটি ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।

ওবায়দুর রহমানের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে সুযোগ পেলেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 5