রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে চারুকলা অনুষদের পাশের রেললাইনে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ফুরকান উদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক (টিটি) বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে টিকিট ইস্যু না করে ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত চশমাও ভেঙে যায়।
ফুরকান উদ্দিন বলেন, “রেলের অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখে একজন সচেতন নাগরিক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এর জের ধরে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি আহত হয়েছি এবং আমার চশমা ভেঙে গেছে।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। আন্দোলনস্থলে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজশাহীর সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত, মারধরের ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।”
ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

