করোনাকালে নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া করোনা রিপোর্ট প্রদান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির। তিনি জানান, সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারির সময় করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। ২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই করোনা নেগেটিভ ও পজিটিভ সনদ প্রদান, ভুয়া রিপোর্ট তৈরি এবং রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে এর কার্যালয় সিলগালা করা হয়। একই দিনে সাহেদ করিমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাহেদ করিম। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সব মামলায় জামিন লাভের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

