Saturday, November 7

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক সভাপতির বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু) মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তি বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলেন। এরপর ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, বৃদ্ধা শাশুড়ির চিকিৎসার কারণে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে হামলাকারীরা তাঁদের ছয় কক্ষবিশিষ্ট পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলেন। তিনি দাবি করেন, চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকার লোকজনকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় এবং কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাড়িটি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে থাকা কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীদের বাধার মুখে সেখান থেকে সরে যান বলে তিনি দাবি করেন।

খবর পেয়ে শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা বাড়ির চারটি কক্ষে আগুন জ্বলতে দেখেন এবং দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মুঠোফোনে কাজী মিজানুর রহমান বলেন, জমি কিনেই তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে কী কারণে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিরোধের কথা উল্লেখ করেননি।

অন্যদিকে, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার বলেন, বাড়িটি পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ভূমি অফিসের নথি রয়েছে। তবে প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ না করে কেন নিজেরা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, অতীতে তাঁদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাড়িটিতে আগুন দেয় এবং খননযন্ত্র দিয়ে ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
57 + = 59