স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ধাপগুলোতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা দ্রুত সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কোন্দল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনেও একই ধরনের সংশোধন আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা মানেই যে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মোতায়েন করা হবে, এমন নয়।
তিনি বলেন, “প্রথম ধাপের নির্বাচন যদি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলোতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নাও হতে পারে। কিন্তু যদি কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে যেন দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যায়, সে সুযোগটি আমরা রাখতে চাই।”
বর্তমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০০৯ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে রয়েছে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্ট গার্ড। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে এসব বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের আইনগত সুযোগ পাবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে এক লাখ তিন হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮১টি চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে। মামলা, সীমানা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী হবে।
অন্যদিকে, দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে বর্তমানে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় এখনো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।

