ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্র মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মানিক উপজেলার ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, গত ২ জুলাই দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম্মেল উকিলের বালুর মাঠে ইব্রাহিম খলিল নয়ন, আশরাফ, আরমান ও অমিতসহ কয়েকজন যুবক আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে তাদের সঙ্গে মানিকের কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে মানিক তার সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়ন, আশরাফ ও আরমানকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। আশরাফ ও আরমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা মাটি ও একজোড়া স্যান্ডেল জব্দ করে। পরে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় লালমোহন থানার সামনে থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি চাকুসহ মানিককে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে গত ২ জুলাই লালমোহন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মানিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভোলা জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আদালতের কাছে আসামির রিমান্ড আবেদন করা হবে।

