Saturday, November 7

লিড:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা ও সমালোচনা করলেও অর্থবিলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেয়নি বিরোধী দল। সংসদ-সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবিলে বিরোধী দলের কোনো সংশোধনী না দেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সংসদীয় ইতিহাসে বিরল।

সংবাদ:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রায় ৪৬ ঘণ্টা আলোচনা করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বাজেটের নানা দিকের সমালোচনা ও পরিবর্তনের দাবি তুললেও অর্থবিলের কোনো ধারায় লিখিত সংশোধনী প্রস্তাব দেননি তারা।

সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অর্থবিলে বিরোধী দলের কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না দেওয়ার ঘটনা বিরল। জাতীয় সংসদের দুই কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কর্মজীবনে এর আগে এমন নজির দেখা যায়নি।

গত সোমবার অর্থবিল পাসের জন্য সংসদে তোলা হলে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী আনেননি। পরে মঙ্গলবার নির্দিষ্টকরণ বিল এবং সোমবার অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়।

সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, অর্থবিলের শুল্ক-করসংক্রান্ত কোনো ধারা পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত সংশোধনী প্রস্তাব দিতে হয়। জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পরই সংশোধনী উপস্থাপনের সুযোগ থাকে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরাই বিভিন্ন বিলে বেশি সংশোধনী প্রস্তাব দেন। অনেক ক্ষেত্রে সেসব প্রস্তাব গৃহীতও হয়। তবে এবার অর্থবিলে ১১ জন সরকারি দলের সদস্য ৬৪টি সংশোধনী প্রস্তাব দেন এবং সবগুলোই গৃহীত হয়।

এসব সংশোধনীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর সরকারি দলের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী সংশোধনী প্রস্তাব আনেন, যা সংসদে গৃহীত হয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, তাঁদের মূল আপত্তি ছিল বাজেট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, কাঠামোগত দুর্বলতা, অস্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে। এসব মৌলিক সমস্যা ছোটখাটো সংশোধনীর মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয় বলেই তাঁরা অর্থবিলে সংশোধনী প্রস্তাব না এনে পুরো বিল জনমত যাচাইয়ে পাঠানোর প্রস্তাব করেছিলেন। তবে ভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

এদিকে বাজেট আলোচনায় বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমানোর মৌখিক প্রস্তাব এলেও অর্থবিলে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সংশোধনী না থাকায় তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে এবং অর্থবিলের বাইরে এ বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
76 + = 78