Saturday, November 7

শেরপুরে নালিতাবাড়িতে এক আদিবাসী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে কান্তি মারাক নামের এক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠন করে দেওয়া বিশেষ বেঞ্চে আজ এই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন) মঞ্জুর করেছেন এবং আসামির জেল আপিল নিষ্পত্তি করে নিম্ন আদালতের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।

মামলার এজাহার ও বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ বিকালে শেরপুরের নালিতাবাড়ি এলাকায় শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সে সময় আসামি কান্তি মারাক কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তীব্র ব্যথায় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে কান্তি মারাক তার নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহটি বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে রেখে সে পালিয়ে যায়। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় বোনের বাড়ি থেকে কান্তি মারাককে গ্রেপ্তার করে। একই বছর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন শেরপুরের আদালত। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ১১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং আসামি কান্তি মারাক নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামি কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। ২০১৯ সালে শেরপুরের আদালতের রায়ের পর মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডিত কান্তি মারাকও জেল আপিল করেন। এরপর দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি হাইকোর্টে বিচারের অপেক্ষায় ছিল।

সম্প্রতি, গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। আজ এই বিশেষ বেঞ্চেই এক যুগ আগের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।

Leave A Reply


Math Captcha
77 − 74 =