Saturday, November 7

রাজধানীর অন্যতম উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বর্তমানে উদ্যানে মাদক কার্যক্রম প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ৫৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ১১৭ জন, এপ্রিলে ১৭৬ জন এবং মে মাসে ২৪৬ জনকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একসময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এমনকি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকেই মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতেন। উদ্যানে সবচেয়ে বেশি গাঁজার প্রচলন থাকলেও ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের উপস্থিতিও ছিল। তবে গত দেড় বছর ধরে নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, উদ্যানে সক্রিয় অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ভাসমান প্রকৃতির। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে তাদের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। পাশাপাশি অস্থায়ী টংঘর উচ্ছেদ করায় মাদক ব্যবসার সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিমও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত ১৩ মে শাহবাগ থানা পুলিশ ছদ্মবেশে গিটার বাজিয়ে গান গাওয়ার আয়োজন করে মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত করে। পরে গাঁজাসহ সাতজনকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলামিন বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বর্তমানে মাদক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। ভাসমান মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি সাদা পোশাকের টিম তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, উদ্যানে মাদক কার্যক্রম আগের তুলনায় কমেছে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে রমনা পার্কের মতো আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে আসায় ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধও কমেছে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাইকিং এবং বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
39 − 37 =