Saturday, November 7

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে শাসন করাকে কেন্দ্র করে এক নারী শিক্ষককে থাপ্পড় ও ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক শেরপুরের নকলা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এনটিআরসিএর মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলার ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে শ্রেণিকক্ষে একটি বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করতে একটি থাপ্পড় দেন শিক্ষক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থী পাল্টা ওই শিক্ষককে কয়েকটি থাপ্পড় ও ঘুষি মারে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থী ছাড়াও তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাটির সাক্ষী। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে আমি শাসন করেছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা সবুর মিয়া একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। এর আগেও ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার দুই দিন পর বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক প্রতিনিধি ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার বাবা সবুর মিয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীকে ভুক্তভোগী শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

তবে সালিশের এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তিনি বলেন, “যেখানে শিক্ষকরা শিক্ষককে এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে সম্মান দিতে জানে না, সেখানে আর ফিরে যেতে চাই না। এই পেশায় কাজ করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলেছি। সরকার যদি নিজ জেলায় বদলির ব্যবস্থা করে, তাহলে বিষয়টি ভেবে দেখব।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার দুই সহকর্মী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, সালিশ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না। পরে লোকমুখে শুনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 16 = 19