Saturday, November 7

গোপালগঞ্জ, ২৩ জুন: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল বা কেক কাটার অনুষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় দেখা গেছে। অনেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি, ব্যানার ও ফটোকার্ড পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের অধিকার দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও দাবি করেছেন।

এদিকে জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় টহলও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে অবস্থান করলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তাদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জে পৌঁছায়।

তবে কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসনের দাবি, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালনের তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
− 6 = 2