Saturday, November 7

বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড (আটকাদেশ) দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. সেলিম ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, মো. রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল এবং মো. সাগর। এর মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। এছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. সজিব হাসান, মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, মো. জাহিদ হাসান, মো. বোরহান আলী এবং মো. বায়েজীদ হোসেন। বর্তমানে তাদের বয়স ২৬ বছরের বেশি হওয়ায় আদালত তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের আট বছর বয়সী ছেলে রিফাত হোসেনকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এক লাখ টাকা ধার না পেয়ে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অপহরণের তিনদিন পর, ১৮ জুলাই, পোয়ালগাছা ব্রিজের নিচ থেকে রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচার চলাকালে মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

দীর্ঘ আট বছর পর রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রিফাতের স্বজনরা। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়। এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আলী আসগর বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে।”

Leave A Reply


Math Captcha
1 + 9 =