Saturday, November 7

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় আবারও অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকালে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শ্রমিকদের মধ্যে বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই কারখানার শতাধিক শ্রমিক একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

হাসপাতাল ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করার পর শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির পর শনিবার কারখানাটি পুনরায় চালু করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার শ্রমিকদের মধ্যে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। অসুস্থদের মধ্যে জুতি, শারমিন, আল আমিন, হাজেরা, রুমা, খুকিমনি, তানিয়া, অঞ্জনা, আসমা, আয়শা, সুবর্ণা, কাজলী, জান্নাতী, পিয়ারা, চম্পা, রুনা ও তসলিমাসহ প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক জানান, শনিবার তারা কারখানার পানি পান করেননি। তবে কারখানায় প্রবেশের পর একটি অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভব করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

ড্রেসম্যান লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর কারখানার পানির লাইন বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার শ্রমিকরা পানি পান না করলেও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, “বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বা দূষিত পানিবাহিত কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিক বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।”

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কারখানার পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। কোনো গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
19 − 10 =