বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে উত্তর বিভাগের ডিসি পদ থেকে সরিয়ে ডিসি ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স হিসেবে পদায়ন করা হয়।
একই আদেশে উত্তর বিভাগের নতুন ডিসি হিসেবে হাসান মোস্তফা স্বপন এবং দক্ষিণ বিভাগের ডিসি হিসেবে হাবিবুর রহমান প্রামাণিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে অর্থ ও প্রশাসন এবং কবির আহম্মদ ভূঁইয়াকে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এর আগে নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে মামলার এজাহারভুক্ত দুই পুলিশ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হননি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওসি আরিফের কথিত সোর্স সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গত ১২ জুন দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। নাঈমের দাবি, তাকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়েছিল এবং ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটায়।
ঘটনার পর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে খুলশি থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপি লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী এবং সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সিএমপিতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যেই নাঈম হাসান নির্যাতনের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

