স্পোর্টস ডেস্ক: দিনটি নেইমারের জন্য যেন একই সঙ্গে আনন্দ আর হতাশার। একদিকে পরিবারে নতুন অতিথি আসার সুখবর, অন্যদিকে মাঠে ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা। ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলারের জীবন যেন এখন ভালো-মন্দের এক অদ্ভুত মিশেলে আটকে আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করে নেইমারের বান্ধবী জানিয়েছেন, তারা আবারও সন্তানের বাবা-মা হতে চলেছেন। এর মধ্য দিয়ে পঞ্চমবারের মতো বাবা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিগত জীবনের এই সুখবর নেইমারের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ।
তবে একই দিনে এসেছে হতাশার খবরও। চোট কাটিয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে মাঠে ফিরতে পারেননি তিনি। সতীর্থরা যখন অনুশীলনে ব্যস্ত, তখন নেইমারকে যেতে হয়েছে মেডিক্যাল মূল্যায়নের জন্য। বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তাঁর মাঠে ফেরার সময় এখনো অনিশ্চিত।
গত ১৭ মে চোটে পড়েন নেইমার। তখন তাঁর ক্লাব জানায়, পেশিতে সামান্য ফোলাভাব দেখা দিয়েছে। এরপরও তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়। এক সপ্তাহ পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তাঁর চোটটি গ্রেড-২ পর্যায়ের এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সে হিসাব অনুযায়ী ১৭ জুনের মধ্যেই তাঁর অনুশীলনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুটি ম্যাচেও মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার।
২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ রয়েছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ থেকে তিনি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ছিটকে গেছেন। তবে অনুশীলনে ফেরার নির্দিষ্ট সময়ও এখনো জানানো হয়নি।
ব্রাজিল দলের চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফ নেইমারকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাঁদের লক্ষ্য, নকআউট পর্বের জন্য তাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলা। এমনকি গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল প্রত্যাশিত ফল না পেলেও সেই পরিকল্পনা বদলানোর সম্ভাবনা কম।
তবে উদ্বেগের জায়গা অন্যত্র। ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে এসে চোট যেন নেইমারের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর থেকে বারবার চোট তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে থামিয়ে দিয়েছে।
এখন তাই নেইমারের সামনে দুটি অপেক্ষা—একটি নতুন সন্তানের আগমনের, আরেকটি প্রিয় সবুজ-হলুদ জার্সিতে মাঠে ফেরার।

