চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি অবস্থায় দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।
পুলিশ জানায়, দেবাশীষ চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকার একটি আশ্রমে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সদরঘাট থানার পিকে সেন এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে দেবাশীষের পরিবারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কারাগারে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
দেবাশীষের মা প্রতিভা মহাজন জানান, গত ২৭ এপ্রিল রাতে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় এসে তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জানতে পারেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সদরঘাট থানা ভাঙচুর মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল না। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলেটাকে শেষ করে দিয়েছে।”
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-এর সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, “দেবাশীষ সাংগু ওয়ার্ডের হাজতি ছিলেন। সোমবার সকালে কথা বলতে বলতে হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে পড়ে যান। পরে তাকে কারা হাসপাতাল থেকে চমেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদরঘাট থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দেবাশীষকে থানা ভাঙচুর মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

