চট্টগ্রামের শতবর্ষী ব্যবসায়ী সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ঘোষিত নির্বাচনকে “প্রহসনের নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নগরীর Radisson Blu Chattogram Bay View-এ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনটির প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চিটাগাং চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগে বাধ্য হলে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সদস্য যাচাই-বাছাই ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কিছু পরিচালককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার চেষ্টা করছে।

এস এম নুরুল হক জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। পরে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। আদালতের নির্দেশনায় নতুন তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও নির্বাচন বোর্ড হঠাৎ করে আগামী ২৩ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বিধিমালার আলোকে তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও পূর্বের তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। নির্বাচন বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে “বেআইনি, পক্ষপাতমূলক ও আরোপিত” বলে দাবি করেন বক্তারা।

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়। পরে অপর পক্ষ চেম্বার জজ আদালত থেকে ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে এবং আগামী ৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এরপরও জোরপূর্বক নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডা. এটিএম রেজাউল করিম, আহমেদুল আলম চৌধুরী (রাসেল), মোহাম্মদ আইয়ুব, এস এম কামাল উদ্দিন, কাজী ইমরান এফ রহমান, কামরুল হুদা, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তফা আহমেদ, আহমেদ রশিদ আমু, নুরুল আফছার, মোহাম্মদ আজিজুল হক, মো. রাশেদ আলী, মোহাম্মদ মুসা, আরিফ হোসেন ও হুমায়ূন পাটোয়ারীসহ অন্যরা।

শেষে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষ থেকে চিটাগাং চেম্বারের সদস্যদের “প্রহসনের নির্বাচন” বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
53 + = 62