চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নগরের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরের বিভিন্ন খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কোথাও পাম্প ব্যবহার করা না গেলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। চলমান উন্নয়নকাজ আগামী বর্ষা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা থাকবে না। তবে অবশিষ্ট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সমস্যার সমাধানে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ জন্য তিনি নগরবাসীর ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

মীর শাহে আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটগুলো সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড তদারকি করছে এবং সেগুলো সচল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ খালের মুখ নিয়মিত ড্রেজিং করে কর্ণফুলি নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখছে।

তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে। মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হবে।

সিডিএ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটিকে সরাসরি ব্যর্থ বলা যাবে না, তবে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে, তবে সেটি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে। অতীতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার যে পরিস্থিতি ছিল, তা আর ফিরে আসবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতে চট্টগ্রামে ২৪৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাব থাকলেও নগরী আগের মতো তলিয়ে যাবে না—এমন প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
63 − = 56