মৌসুমের প্রথম দিকের বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, শোলকবহর, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট ও তিন পুলের মাথাসহ অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কারণে খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, সমন্বয়হীনতা এবং খাল পরিষ্কারে দেরির কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, হিজড়া খাল ও জামালখান খালের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় সেখানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সংযুক্ত এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, তিন বছরের প্রকল্প আট বছরেও শেষ না হওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এপ্রিল মাসে বৃষ্টির প্রবণতা থাকার পরও সময়মতো খাল পরিষ্কার না করাকে তিনি “জনগণের সঙ্গে তামাশা” বলে মন্তব্য করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে এবং দমকা হাওয়া ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এখন নিয়মিত জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানায়, প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯৪ শতাংশ হলেও অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে কাজ ধীরগতিতে চলছে। তবে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে এখন ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

