চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জিএম (ডিপিএ, চলতি দায়িত্ব) ক্যাপ্টেন আমীর মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে নাবিকদের হয়রানি, স্বজন প্রীতি, সিলেকশনে অনিয়ম, বেতন বৈষম্য, জাল সনদে চাকরী, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং নতুন জাহাজে অদক্ষ কর্মকর্তার নিয়োগসহ শতাধিক অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মে প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও এসপিডি বিভাগ তাকে উল্টো জিএম (ডিপিএ, সিইও) পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এই পদোন্নতিতে দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সী-ম্যান্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, আবু সুফিয়ান প্রতিষ্ঠানকে সীমাহীন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করেছেন। তার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের ক্যাপ্টেন রাশিয়ান নেভির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুদ্ধ সীমানায় জাহাজ নিয়ে যাওয়ার কারণে বিএসসি একটি নতুন জাহাজ ও একজন চৌকস অফিসারকে হারিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, মোঃ সোহানূর রহমান সোহান নামের একজন ট্রেইনিং ফায়ারম্যানকে জাহাজে তুলতে ২ লাখ টাকা ধার্য্য করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এছাড়া নাবিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির জন্য পদ ও পদবির ভিত্তিতে টাকার দাবি করা হয়, চাকুরীর সময় কমিশন ঠিক করা হয় এবং নির্দেশ মানা না হলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
দলীয় নেতারা আরও জানান, দুদক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলেও জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এখনও তিনি চাকরিতে বহাল আছেন। নানা অভিযোগ জমা পড়লেও বিএসসি ও নৌ মন্ত্রণালয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এই ঘটনাগুলো জাহাজ নির্মাণ শিল্পসহ দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মোঃ আরাফাত চৌধুরী

