ভোলার চরফ্যাশনের লূৎফুন্নেছা মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রায় সাত ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেষ ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে আবদুল্লাহ আল মাহমুদের দেওয়া আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। পোস্টটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচিতজনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে স্ট্যাটাসটির সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দ্বিতীয় বিয়ের পর লালমোহনে বসবাস
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি থাকাকালে তৎকালীন চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী নাহিদা পারভীনের সঙ্গে আবদুল্লাহ আল মাহমুদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুজনই আগের সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হন। ২০২৩ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর নাহিদার বাবার বাড়ির এলাকার কাছে লালমোহনে একটি তিনতলা ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তাঁরা বসবাস করছিলেন। তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর নাহিদা তাঁকে প্রথম পক্ষের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না। তবে এ বিষয়ে নাহিদা পারভীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাড়া বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার রাতে চরফ্যাশন উপজেলার ওমরাবাজ এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে দাফন করা হয়।

