Saturday, October 10

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশকর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে দুই বস্তা টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিকাশের এক ক্যাশ ম্যানেজার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা। ছিনিয়ে নেওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকার বনঘেরা নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ক্যাশ ম্যানেজার হিমেল (৩৫) শ্রীপুর পৌর এলাকার বেরাইদেরচালা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাওনা অঞ্চলে বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম মো. ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।

১২ থেকে ১৫ মোটরসাইকেলে এসে হামলা

হামলার শিকার বিকাশকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে দিনভর প্রায় চার কোটি টাকা সংগ্রহ করেন তাঁরা। পরে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় টাকা ভরে একটি প্রাইভেটকারে করে মাওনার উদ্দেশে রওনা হন তিন কর্মকর্তা।

গাড়িটি শ্রীপুর-গোসিংগা সড়কের কর্ণপুর এলাকার নির্জন ও বনঘেরা অংশে পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্য দুই কর্মকর্তা ও চালককে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে গাড়ির পেছনের ডালা খুলে টাকাভর্তি তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, ছিনিয়ে নেওয়া দুই বস্তায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ছিল। তবে টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গুলিবিদ্ধ ক্যাশ ম্যানেজার হাসপাতালে

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চারজনকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে হিমেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক সরকার জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় চারজন হাসপাতালে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির গভীর ক্ষত ছিল। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টাকা পরিবহনে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়নি

বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিবহনের সময় বিকাশকর্মীদের সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, প্রায় চার কোটি টাকা পরিবহনের বিষয়ে বিকাশের পক্ষ থেকে পুলিশের কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি। নরসিংদী, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর এলাকার ওপর দিয়ে টাকা পরিবহন করা হলেও সংশ্লিষ্ট তিন থানার কোনোটিকেই বিষয়টি জানানো হয়নি। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও যোগাযোগ করা হয়নি।

ওসি আরও জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা তিন বস্তা টাকার মধ্যে দুটি বস্তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিবহনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
2 + 1 =